কিরে বন্ধু হলো কেউ???
পাঁচ বছরের 'মিতালী'কে মা প্রশ্ন করেছিল স্কুলের দ্বিতীয় দিনে, ছোট্টো মাথা উত্তর খুঁজে পায়নি সেদিন। তবে দিদিমণির ভয়ে যেদিন স্কার্ট ভিজে গেছিল, সবাই হাঁসলেও একটা ছোট্ট হাত তার ছলছলে চোখ মুছিয়ে বন্ধুত্বের বীজ বপন করে দেয়। তাই মা কে 'প্রথমা'র নাম বলতে ভোলেনি সে।
হাইস্কুলে তিনটি ক্লাস একসাথে পেরিয়ে অষ্টম এ এসে অন্য বিভাগ 'মনোপ্রিয়া'র থেকে আলাদা করে বন্ধু বিচ্ছেদের ব্যথা অনুভব করিয়েছিল তাকে। বাড়িতে এসে বাবার পিঠে মাথা রেখে কেঁদেছিল অবোধ শিশুর মতো। স্কুলের ছোট গন্ডী পেরিয়ে কলেজের আচমকা বেড়ে ওঠার চমক্ চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। পরীক্ষায় টুকলি উপহার দিয়ে 'অনন্ত' তার মনের মণিকোঠায় স্থান পায়। তারপর সকলের কৌতুহল ও প্রশ্নে সে প্রেমিক জাতীয় পুরুষ হয়ে ওঠে। শেষ দিন প্রতিশ্রুতি পেয়ে বন্ধুত্বের চরমতম আহ্লাদে ভাইয়া কে মন উজাড় করে বলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাট প্রাঙ্গণে সেই প্রতিশ্রুতি শত মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যায়। এখন বেশ কয়েকজন নিয়ে গ্ৰ্যুপ তৈরি হলেও কে কতটা কাছে আর কে দূরে ধন্দ লাগে, বাবার গলায় ছোটবেলায় শোনা গান ভেসে ওঠে' জীবন পুরের পথিক রে ভাই.. কোনো দেশে শাকিন নাই... কোথাও আমার মনের খবর পেলাম না'।
বিয়ের দশম বছরে স্বামীর কাছে পাওয়া হার, ছেলের হামী,মা বাবা শ্বশুর শ্বাশুড়ির থেকে পাওয়া ভালবাসায় বন্ধুত্বের নতুন দিশা খুঁজে পায় সে।এরাও তো ছিল পাশেই,বুঝিনি কেবল মাত্র।বন্ধুত্বের তো কোনো নাম নেই, পরিধি নেই, পরিধান হয়না,বয়স ও সময়ের মাপকাঠি থাকেনা।এক কথায় বলা যায় বন্ধু মানে 'আত্মতুষ্টির নিমিত্ত মাত্র' বা ' আমার আমিত্বের আংশিক প্রতিচ্ছবি'।
No comments:
Post a Comment